
চ্যানেল-উই ফর ইউ
নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী জেলা রাসুয়ায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় প্রায় ৫০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। বার্তা সংস্থা পিটিআই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) নেপাল ও চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বতে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। এতে শত শত মানুষ কাদা ও বন্যার পানির নিচে চাপা পড়েন। নিখোঁজদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশি নাগরিক রয়েছেন।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোতকোশি নদীর তীরবর্তী মানুষ ও বিভিন্ন অবকাঠামো এই বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার কারণে রাস্তা, সেতু ও অন্যান্য যোগাযোগব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয়, ১৭ জন মালয়েশীয়, ৪ জন দক্ষিণ আফ্রিকান, ৩ জন মার্কিন এবং একজন করে অস্ট্রেলীয় ও ডাচ নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া যুক্তরাজ্যের ১২ জন নাগরিকেরও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
নিখোঁজ ভারতীয়দের মধ্যে ১০৫ জন সাধারণ ভারতীয় নাগরিক এবং ৩৭ জন অনাবাসী ভারতীয় রয়েছেন। সব মিলিয়ে ভারতীয় ও অনাবাসী ভারতীয় ১৪২ জনের অবস্থান এখনও নিশ্চিত নয়।
তবে নিখোঁজদের তালিকায় থাকা আরও ১১১ জনের জাতীয়তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, নিখোঁজ ব্যক্তিদের জাতীয়তা শনাক্ত ও তাদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। ফলে নিখোঁজদের সংখ্যা ও জাতীয়তার তথ্য পরবর্তী সময়ে পরিবর্তিত হতে পারে।
নেপালের কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও জলবায়ু গবেষক রিজান ভক্ত জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে লেন্দে নদীতে বরফধসের ঘটনা ঘটার তথ্য পাওয়া গেছে। এতে নদীর পানিপ্রবাহ সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়ে পানি জমতে থাকে।
বুধবার সকাল ৯টার দিকে নেপালে আকস্মিক বন্যার পানি নেমে আসার সময় তিব্বতে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভূমিকম্পের প্রভাবে বরফ নড়ে গিয়ে লেন্দে নদীর পানি একসঙ্গে ভোতকোশি নদীতে নেমে আসতে পারে। তবে বন্যার সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করতে আরও তদন্ত প্রয়োজন।
এদিকে নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান ও তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করেছে।