1. info@www.channelweforyou24.com : CHANNEL WE FOR YOU 24 :
মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় ৩৭ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসী গ্রেপ্তার বছরে হাজার কোটি টাকা কর ফাঁকির অভিযোগের-শীর্ষে চিকিৎসকরা ভালোবাসায় সংসার টেকে , অবিশ্বাসে ভাঙ্গে ;দায় কার? হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৮ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৫২ লালমনিরহাটে যাওয়ার পথে বাসেই সন্তানের জন্ম, শিশুর আজীবন ফ্রি যাতায়াতের ঘোষণা, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সিরাজপুরে আনন্দ মিছিল-অনুষ্ঠিত, বর্তমান বাংলাদেশে প্রায় প্রতিটি পেশাই আজ দুর্নীতি যুক্ত, কোম্পানীগঞ্জে মুছাপুর রেগুলেটর পুনর্নির্মাণে ৭৫১ কোটি ৭৭ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন, দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নের পথে, কোম্পানীগঞ্জের রাজনীতিতে তিন দশকের পথচলায় যুবনেতা জাহিদুর রহমান রাজন, কলেজ পর্যায়ে অভিভাবকদের সচেতনতা ও সঠিক দিকনির্দেশনা জরুরি:

বছরে হাজার কোটি টাকা কর ফাঁকির অভিযোগের-শীর্ষে চিকিৎসকরা

  • প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২০ বার পড়া হয়েছে

২০২৬–২৭  করবর্ষে ১জন চিকিৎসক এর বাৎসরিক আয় করের হার:

*প্রথম ৩,৭৫,০০০ টাকা: ০%
*পরবর্তী ৩,০০,০০০ টাকা: ১০%
*পরবর্তী ৪,০০,০০০ টাকা: ১৫%
*পরবর্তী ৫,০০,০০০ টাকা: ২০%
*পরবর্তী ২০,০০,০০০ টাকা: ২৫%
*এর বেশি আয়: ৩০%
আনুপাতিক হারে আয় এর উপর কম বেশি হতে পারে।

রোগী দেখার ফি, অপারেশন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সম্মানীসহ একাধিক আয়ের উৎস; নগদ লেনদেনে করা হচ্ছে তথ্য গোপন।

নিউজ ডেস্ক |চ্যানেল উই ফর ইউ,

বাংলাদেশে চিকিৎসাসেবা নিতে গিয়ে রোগীদের চিকিৎসকের ফি, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ ও হাসপাতাল ব্যয়সহ নানা ধরনের অর্থ পরিশোধ করতে হয়। চিকিৎসা খাতে ব্যয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ খাতের আর্থিক লেনদেনও বাড়ছে। এর মধ্যেই উচ্চআয়ের কিছু চিকিৎসক প্রকৃত আয় গোপন করে যথাযথ হারে আয়কর দিচ্ছেন না বলে আয়কর-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, চিকিৎসকদের আয় শুধু রোগী দেখার ফিতে সীমাবদ্ধ নয়। হাসপাতাল ও ক্লিনিকের সম্মানী, অপারেশন, বিভিন্ন চিকিৎসা-প্রক্রিয়া, পরামর্শ এবং অন্যান্য পেশাগত কার্যক্রম থেকেও তাঁদের আয় হয়ে থাকে। এসব আয়ের একটি অংশ নগদে লেনদেন হওয়ায় প্রকৃত আয় শনাক্ত ও যাচাই করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তবে চিকিৎসকদের কর ফাঁকির সুনির্দিষ্ট মোট পরিমাণ কিংবা এতে জড়িত চিকিৎসকের সংখ্যা নিয়ে প্রকাশ্য সরকারি পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। ফলে বিভিন্ন মহলের দেওয়া হিসাবকে সরকারি চূড়ান্ত তথ্য হিসেবে না দেখে অভিযোগ, দাবি ও সম্ভাব্য হিসাব হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশে অনেক চিকিৎসক একই সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ব্যক্তিগত চেম্বারে চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকেন। ফলে একজন চিকিৎসকের আয়ের উৎসও একাধিক হতে পারে।

রোগী দেখার ফি ছাড়াও অপারেশন, বিভিন্ন চিকিৎসা-প্রক্রিয়ার ফি, হাসপাতাল বা ক্লিনিকের সম্মানী, পরামর্শ ফি এবং অন্যান্য পেশাগত কার্যক্রম থেকে আয় হতে পারে।

আয়কর-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, কোনো করদাতার প্রকৃত আয় ও আয়কর রিটার্নে প্রদর্শিত আয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অসামঞ্জস্য পাওয়া গেলে বিষয়টি যাচাই করা প্রয়োজন।

উদাহরণ হিসেবে, কোনো সরকারি কর্মকর্তা -চিকিৎসক চাকরি থেকে পাওয়া বেতনের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালে চেম্বার, রোগী দেখা, অপারেশন কিংবা বৈধ বিনিয়োগ থেকে আয় করলে এসব আয়ের তথ্য যথাযথভাবে রিটার্নে প্রদর্শন করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। আয় গোপন করে অর্থ অন্যের নামে বা বেনামে রাখা হয়ে থাকলে, প্রমাণ সাপেক্ষে তা কর আইনের আওতায় আসতে পারে।

বছরে ২০ থেকে ২৫ হাজার চিকিৎসকের কর ফাঁকির দাবি

কিছু অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দেশে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার চিকিৎসক তুলনামূলক বেশি আয় করেও পুরোপুরি কর পরিশোধ করছেন না। এসব দাবিতে সম্ভাব্য কর ফাঁকির পরিমাণ বছরে কয়েক হাজার কোটি টাকা থেকে ১০ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা বা তারও বেশি হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এই সংখ্যা ও অর্থের পরিমাণের পক্ষে পূর্ণাঙ্গ সরকারি তালিকা, নিরীক্ষিত হিসাব কিংবা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রকাশিত কোনো চূড়ান্ত পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। ফলে এসব তথ্যকে আপাতত দাবি বা সম্ভাব্য হিসাব হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

আয়কর কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে আরও দাবি করা হয়েছে, দেশে বছরে কোটি টাকার বেশি আয় করেন এমন চিকিৎসকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। তাঁদের প্রকৃত আয় ও আয়কর রিটার্নে প্রদর্শিত আয়ের মধ্যে পার্থক্য থাকার অভিযোগও রয়েছে।

কোনো উচ্চআয়ের চিকিৎসকের প্রকৃত করযোগ্য আয় যদি রিটার্নে প্রদর্শিত আয়ের তুলনায় বেশি হয়, তাহলে ওই অতিরিক্ত আয়ের ওপর প্রযোজ্য কর হিসাব করলে তাঁর করদায়ও বাড়তে পারে।

উদাহরণ হিসেবে, ১০ হাজার করদাতার প্রত্যেকের ক্ষেত্রে গড়ে ৫০ লাখ টাকা করে কর ফাঁকি হয়েছে ধরে নিলে সম্ভাব্য মোট পরিমাণ দাঁড়ায় ৫ হাজার কোটি টাকা। আবার গড় ফাঁকির পরিমাণ ৬০ লাখ টাকা হলে তা দাঁড়াবে ৬ হাজার কোটি টাকা।

তবে এটি শুধুই গাণিতিক উদাহরণ।

আয়কর-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে রোগীর কাছ থেকে সরাসরি ফি নেওয়ার ঘটনা থাকায় নগদ লেনদেনের প্রকৃত পরিমাণ শনাক্ত করা অনেক সময় কঠিন হতে পারে।

কোনো চিকিৎসকের প্রকৃত আয় নির্ধারণে শুধু ব্যাংক হিসাব দেখলেই হবে না। প্রতিদিনের রোগীর সংখ্যা, চেম্বারের রসিদ, হাসপাতাল বা ক্লিনিকের হিসাব, ব্যাংক লেনদেন, আয়কর রিটার্ন, সম্পদ বিবরণী এবং জীবনযাত্রার ব্যয়সহ বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

আয় ও সম্পদের মধ্যে অস্বাভাবিক অসামঞ্জস্য পাওয়া গেলে কর কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী বিষয়টি যাচাই করতে পারে। তদন্তে কর ফাঁকির তথ্য প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

আয়কর আইন, ২০২৩-এ কর ফাঁকি ও আয় গোপনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শাস্তির বিধান রয়েছে।

আইনের সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী, ইচ্ছাকৃতভাবে করদায় এড়ানোর চেষ্টা, প্রকৃত আয় গোপন, করদায় কমানোর উদ্দেশ্যে সম্পদ, দায় বা ব্যয় সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেওয়া কিংবা সংশ্লিষ্ট হিসাব ও নথিতে অসত্য তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান রয়েছে।

আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ৩১২ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে করদায় এড়ানোর চেষ্টা বা আয় গোপনের অপরাধে কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। একই সঙ্গে আইনের অন্যান্য ধারায় ভুল বা অসত্য তথ্য প্রদর্শনের ক্ষেত্রে জরিমানার বিধানও রয়েছে।

ধারা ২১২ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে কোনো করদাতা কর পরিশোধ এড়িয়ে গেছেন বলে উপকর কমিশনারের বিশ্বাস করার কারণ থাকলে তাঁকে নোটিশ দেওয়া যেতে পারে। এ প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় রিটার্ন, বিবরণী ও দলিল দাখিলের পাশাপাশি বকেয়া কর পরিশোধের বিষয়টিও সামনে আসতে পারে।

এ ছাড়া কর কর্তৃপক্ষের তদন্ত, যাচাই ও অনুসন্ধানের জন্য আয়কর আইনে বিভিন্ন ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আইন অনুযায়ী আয়, সম্পদ ও দায়সংক্রান্ত নথি তল্লাশি ও জব্দের ব্যবস্থাও রয়েছে।

কর ফাঁকি শনাক্ত ও রাজস্ব আদায়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীন কর অঞ্চলগুলোর সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো কাজ করছে।

এনবিআরের কর প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সদস্য জি এম আবুল কালাম কায়কোবাদ বলেন, প্রতিটি রাজস্ব সভায় কর কমিশনারদের এ বিষয়ে কাজ করতে বলা হয়েছে। গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদারে প্রতিটি কর অঞ্চলে গোয়েন্দা ও তদন্ত সেল (আইআইসি) স্থাপন করা হয়েছে। যাঁদের বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগ থাকবে, সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের সেলগুলো তাঁদের বিষয়ে কাজ করবে।

কর বিশেষজ্ঞদের মতে, কর ফাঁকি কোনো নির্দিষ্ট পেশার একক সমস্যা নয়। ব্যবসায়ী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, পরামর্শকসহ সব উচ্চআয়ের পেশাজীবীর প্রকৃত আয় ও সম্পদের তথ্য যথাযথভাবে আয়কর রিটার্নে প্রতিফলিত হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।

রাজস্ব হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রাষ্ট্র-

সরকারের রাজস্ব আয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস আয়কর। উচ্চআয়ের করদাতারা প্রকৃত আয় অনুযায়ী কর পরিশোধ করলে সরকারের রাজস্ব বাড়ে। সেই অর্থ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, অবকাঠামোসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করার সুযোগ তৈরি হয়।

তাই চিকিৎসকসহ সব পেশাজীবীর আয়কর রিটার্ন যাচাইয়ে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণ এবং আয়-সম্পদের সামঞ্জস্য যাচাই আরও জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট