1. info@www.channelweforyou24.com : CHANNEL WE FOR YOU 24 :
মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় ৩৭ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসী গ্রেপ্তার বছরে হাজার কোটি টাকা কর ফাঁকির অভিযোগের-শীর্ষে চিকিৎসকরা ভালোবাসায় সংসার টেকে , অবিশ্বাসে ভাঙ্গে ;দায় কার? হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৮ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৫২ লালমনিরহাটে যাওয়ার পথে বাসেই সন্তানের জন্ম, শিশুর আজীবন ফ্রি যাতায়াতের ঘোষণা, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সিরাজপুরে আনন্দ মিছিল-অনুষ্ঠিত, বর্তমান বাংলাদেশে প্রায় প্রতিটি পেশাই আজ দুর্নীতি যুক্ত, কোম্পানীগঞ্জে মুছাপুর রেগুলেটর পুনর্নির্মাণে ৭৫১ কোটি ৭৭ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন, দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নের পথে, কোম্পানীগঞ্জের রাজনীতিতে তিন দশকের পথচলায় যুবনেতা জাহিদুর রহমান রাজন, কলেজ পর্যায়ে অভিভাবকদের সচেতনতা ও সঠিক দিকনির্দেশনা জরুরি:

৭ জনের এক খাটে কষ্টের জীবন, তবুও শাবনাজের জিপিএ-৫

  • প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৫৬ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক |চ্যানেল উই ফর ইউ,

নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের বাঁশবাড়ি মহল্লার বস্তি (ক্যাম্প) এলাকার ১০ বাই ১০ ফুটের জরাজীর্ণ একটি চালাঘর। ঘরের ভেতর একটিমাত্র খাট। সেই খাটেই বাবা-মাসহ পরিবারের সাত সদস্যের কোনো রকমে মাথা গোঁজার ঠাঁই। কখনো খাবার জোটে, কখনো জোটে না। বাবার দিনভর রিকশা চালানো আর মায়ের সীমাহীন কষ্টে কোনোরকমে চলে সংসার।

এমন প্রতিকূলতার মধ্যেও অদম্য মেধা ও অধ্যবসায়ের পরিচয় দিয়েছে শাবনাজ খাতুন রানি। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে সে। সৈয়দপুর শহরের আল ফারুক একাডেমি থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল শাবনাজ।

শাবনাজের কাছে এই সাফল্য শুধু একটি ফল নয়, বরং অভাব, অনিশ্চয়তা ও প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াইয়ের ফল।

অভাবের সংসারে পড়াশোনার লড়াই

নিজের সাফল্যের জন্য বাবা-মাকে সবচেয়ে বেশি কৃতিত্ব দেয় শাবনাজ। পাশাপাশি শিক্ষকদের সহযোগিতার কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে সে।

শাবনাজ জানায়, অনেক রাত না খেয়েও কাটাতে হয়েছে। তার বাবা মো. ইসমাইল সৈয়দপুর শহরে রিকশা চালান। প্রতিদিন ভোর ৫টার দিকে রিকশা নিয়ে বের হন তিনি। ফিরতে ফিরতে গভীর রাত। যা আয় হয়, তা দিয়ে সামান্য বাজারসদাই নিয়ে বাড়ি ফেরেন। এরপর রাতে চুলা জ্বালিয়ে রান্না করেন মা। এভাবেই চলে তাদের সংসার।

চার বোন ও এক ভাইয়ের পরিবার শাবনাজদের। বড় বোন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞানে সম্মান শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। মেজ বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। আর ছোট বোন সৈয়দপুর পাইলট বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী।

অসুস্থ মা, সংসারের দায়িত্ব বাবার কাঁধে

শাবনাজ জানায়, তার বাবার সামর্থ্য সীমিত। মা মোছা. লাডলি কিছুদিন আগেও মানুষের বাসাবাড়িতে কাজ করতেন। বর্তমানে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তিনি আর কাজ করতে পারেন না। ফলে সংসারের পুরো দায়িত্ব এখন বাবাকেই একা টানতে হচ্ছে।

পরিবারের ২০ বছর বয়সী একমাত্র ভাই লেখাপড়া করেনি, কোনো কাজও করে না। ফলে সেও বাবার ওপর নির্ভরশীল।

এ অবস্থায় ভবিষ্যতে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে কি না, তা নিয়েও শাবনাজের মনে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

তার কণ্ঠে তাই শোনা যায় এক অসহায় প্রশ্ন, “জানি না, ভাগ্যে লেখাপড়া আছে কি না?”

ঋণের কিস্তি পরিশোধ করেই চলে সংসার

শাবনাজের মা মোছা. লাডলি বলেন, তাঁর স্বামী হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেন। আগে মহাজনের রিকশা চালাতেন তিনি। দুই বছর আগে একটি এনজিও থেকে ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে একটি ব্যাটারি রিকশা কিনে দেওয়া হয়।

রিকশার কিস্তি পরিশোধের পর যে টাকা থাকে, তা দিয়েই এত বড় সংসারের খরচ চালাতে হয় বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, আল ফারুক একাডেমির প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম এবং শিক্ষক জালাল উদ্দিন ও মতিউর রহমান শাবনাজের পড়াশোনার বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখতেন। তাঁদের সহযোগিতায় প্রায় অর্ধেক খরচে শাবনাজ পড়াশোনা করতে পেরেছে।

মায়ের মতে, শিক্ষকদের সহযোগিতার পাশাপাশি মেয়ের নিজের চেষ্টা ও একাগ্রতার কারণেই এই সাফল্য এসেছে।

‘মেয়েটাকে প্রতিষ্ঠিত দেখে যেতে চাই’

শাবনাজের বাবা মো. ইসমাইল বলেন, “আমার মেয়ের জন্য দোয়া করবেন। সারাদিন রিকশা টেনে শরীরে শক্তি পাই না। এখন আমার বয়স ৫৫ বছর। মৃত্যুর আগে আমি আমার মেয়েটাকে প্রতিষ্ঠিত দেখতে চাই।”

বাবার এই কথায় যেন ফুটে ওঠে বছরের পর বছর ধরে করা সংগ্রামের গল্প। নিজের কষ্টের বিনিময়ে মেয়ের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

‘বাবা-মায়ের কষ্টকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে’

আল ফারুক একাডেমির প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, শাবনাজ অত্যন্ত মেধাবী ছাত্রী। তার লেখাপড়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল একাগ্রতার।

তিনি বলেন, বাবা-মায়ের কষ্টকে শাবনাজ চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। জিপিএ-৫ অর্জনের মাধ্যমে সে বাবা-মা ও শিক্ষকদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।

তিনি শাবনাজের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।

অভাবকে হারিয়ে নতুন স্বপ্ন

একটি ছোট্ট ঘর, একটি খাট আর সাতজনের সংসার। অভাব যেখানে প্রতিদিনের বাস্তবতা, সেখানেই শাবনাজের জিপিএ-৫ যেন নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস জোগাচ্ছে।

তবে সেই স্বপ্নকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজন আর্থিক ও সামাজিক সহযোগিতা। প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে যে মেয়েটি মেধার স্বাক্ষর রেখেছে, তার উচ্চশিক্ষার পথ যেন অর্থের অভাবে থেমে না যায়, এখন সেটিই পরিবারের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪৫৬
৭৮৯১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট