
নিউজ ডেস্ক |চ্যানেল উই ফর ইউ,
একনেকে অনুমোদন, দীর্ঘদিনের পানি ব্যবস্থাপনা সংকট সমাধানের প্রত্যাশা-
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জসহ বৃহত্তর উপকূলীয় এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। ছোট ফেনী ও বামনী নদী অববাহিকায় সমন্বিত বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে ৭৫১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় মোট ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সভা শেষে এনইসি ভবনে সাংবাদিকদের কাছে অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।
২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট প্রবল বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপে মুছাপুরের ২৩ ভেন্টের রেগুলেটরের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। এর পর থেকে কোম্পানীগঞ্জ ও ফেনীর সোনাগাজীসহ আশপাশের এলাকায় নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা ও বন্যার সমস্যা তীব্র হয়ে ওঠে।
ক্লোজার ও রেগুলেটর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি কৃষি ও সেচ ব্যবস্থাতেও প্রভাব পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি ও অবৈধ বালু উত্তোলনও নদীভাঙন পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। তবে এসব অভিযোগের প্রকৃত কারণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কারিগরি তদন্ত প্রয়োজন।
মুছাপুর রেগুলেটর পুনর্নির্মাণের দাবিতে শুরু থেকেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে আসছিলেন নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম। গত ১০ মার্চ তাঁর আমন্ত্রণে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু মুছাপুর রেগুলেটর এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় মুছাপুর রেগুলেটর পুনর্নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা ও প্রকল্পটি দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।
এর আগে প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ৮৯৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা ধরা হয়েছিল বলে মার্চের বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল। পরবর্তী পর্যায়ে প্রকল্পের অনুমোদিত ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৭৫১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।
স্থানীয় পর্যায়ে মুছাপুর রেগুলেটর নিয়ে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারের নজরে আনার ক্ষেত্রে স্থানীয় সংসদ সদস্যের ভূমিকার কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
একনেকের অনুমোদনের মধ্য দিয়ে মুছাপুর রেগুলেটর পুনর্নির্মাণের প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়েছে। নতুন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কোম্পানীগঞ্জসহ বৃহত্তর উপকূলীয় এলাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন, নদী ব্যবস্থাপনা ও কৃষি ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
বিশেষ করে কৃষি, মৎস্য, জনবসতি ও স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থার ওপর প্রকল্পটির প্রভাব পড়বে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিনের জনদাবি বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বড় অঙ্কের এ প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, নির্মাণকাজের মান এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা হবে। দ্রুত ও টেকসইভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে মুছাপুর ও আশপাশের এলাকার দীর্ঘদিনের পানি ব্যবস্থাপনা সংকটের সমাধান হবে, এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।